বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে যাত্রা যেদিন থেকে, সেদিন থেকেই মানুষ তার পরিসর, পারি পার্শ্বিকতা ও পরিবেশ সম্পর্কে জানার চেষ্ঠা করেছে | এ ধরনের অনুমানের যথার্থতাও রয়েছে | জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার মধ্যে ভূগোলশাস্ত্র সর্বাপেক্ষা প্রাচীন | গ্রীক পণ্ডিত এরাটসথেনিস (জন্ম ২৭৬ খ্রি. পূ.) সর্ব প্রথম Geography শব্দটি ব্যবহার করেন | তিনি এই শাস্ত্রকে 'মানুষের আবাসস্থল হিসেবে পৃথিবীর বর্ণনা করাকে বোঝাতে চেয়েছেন' (Geo = পৃথিবী ; graphy = বর্ণনা বা বিবরণ ) | অন্যদিকে , Geography এর বাংলা প্রতিশব্দ 'ভূগোল'(বরং সরভারতীয় প্রতিশব্দ বলাই যুক্তি সঙ্গত) শব্দটিও একই অর্থে সুপ্রাচীন কাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে | আধুনিক গবেষকদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে, ভূগোল শাস্ত্রে ভারতীয়দের অবদান গ্রীকদের চেয়েও প্রাচীন | যাহোক, এ সম্পর্কে ব্যাপক গবেষনার প্রয়োজন আছে | ভারতীয় পণ্ডিত সূর্যসিদ্বান্ত 'ভূগোল' শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন | প্রাচীন ভারতীয় হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন প্রভৃতি ধর্ম গ্রন্থ এবং প্রাচীন পুরাণ সমূহে 'ভূগোল' ও 'খগোল', (Cosmology -র প্রতি শব্দ) শব্দটি প্রায়শই একই অর্থে ব্যবহৃত হতো এবং অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতার মতো প্রাচীন ভারতেও ভূগোলশাস্ত্রের পরিধি ছিল ব্যাপক ও ধর্মাশ্রয়ী |
সুপ্রাচীন কাল থেকে ভৌগলিক জ্ঞানের চর্চা এবং বিকাশের ফলে ভূগোল শাস্ত্রের বিবর্তন হয়েছে নানাভাবে | কখনো বৈচিত্র্যের বিজ্ঞান হিসেবে, কখনো ভূদৃশ্য বিজ্ঞান, কখনো অঞ্চলক বিজ্ঞান , কখনো পারিসরিক বিজ্ঞান কখনো-বা পরিবেশ বিজ্ঞান হিসেবে | যে পরিচয় ,বা যে নামই দেওয়া হোক না কেন 'ভূগোল'(একই সাথে ইংরেজি Geography) নামটি আজও জনপ্রিয় এবং ভূগোল শাস্ত্রের মূল সুর 'মানুষ ও তার পৃথিবী' টা আজো অবিকৃত রয়েছে | এমন-কি বর্ণনা করনের যে ঐতিহ্য টা এখনো ভূগোল বিদদের প্রাথমিক দায়িত্ব | এই অর্থে ভূগোলবিদরা যথার্থই পরিবেশ সাংবাদিক | পরিবেশের সংগে মানুষের যে বিস্তৃত সম্পর্ক টা একমাত্র ভূগোলবিদরাই পুনাঙ্গ ও যথাযথ বর্ণনার মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন |
সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী পরিবেশ প্রেক্ষাপটে ভূগোল শাস্ত্রকে 'মানব-পরিবেশ মিথস্ক্রিয়ার' বিজ্ঞান হিসেবে অনেকেই আখ্যায়িত করেছেন | বস্তুত , এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভূগোল শাস্ত্রের প্রাচীন ঐতিহ্যের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয় | তবে এই প্রসঙ্গে যা গুরত্ত্ব পূর্ণ টা হলো, পরিবেশ প্রত্যক্ষণ সকল মানুষের এক রূপ নয়, একইভাবে মানব-পরিবেশের সম্পর্কও| ষাটের দশকে ভুগল্শাস্ত্রে আচরণবাদী ধ্যান-ধারণার অনুপ্রবেশ ঘটলে এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হয় | একজন ভেষজবিদের কাছে স্বর্ণলতা মহামূল্যবান ; কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের কাছে টা বুনোলতা মাত্র | সুতরাং মানব-পরিবেশ সম্পর্কিত অনুসন্ধান করা এবং এর সম্ভাব্য নৈব্যত্তিক রূপটি গঠণ করা | যেহেতু সামগ্রিক বা ভৌগলিক পরিবেশ এক এক ব্যক্তির কাছে এক এক রূপে প্রতিকৃত (image) হয় , সেহেতু ভূগোলবিদদের উচিত প্রত্যক্ষজ পরিবেশের সীমা নির্দেশ করা এবং ব্যক্তি বা সমাজের সংগে ওই পরিবেশের সম্পর্কের মাত্রা নির্ধারণ করা | এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ভূগোলশাস্ত্রকে -- সময় ও স্থানিক প্রেক্ষাপটে মানুষ ও তার প্রত্যক্ষজ পরিবেশের সম্পর্ক পর্যালোচনা করার শাস্ত্র হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে |
----
সুত্র : বাকী, আ. ও জা. খান (১৯৯৭) ভুবনকোষ , ঢাকা : বঙ্গ
সুপ্রাচীন কাল থেকে ভৌগলিক জ্ঞানের চর্চা এবং বিকাশের ফলে ভূগোল শাস্ত্রের বিবর্তন হয়েছে নানাভাবে | কখনো বৈচিত্র্যের বিজ্ঞান হিসেবে, কখনো ভূদৃশ্য বিজ্ঞান, কখনো অঞ্চলক বিজ্ঞান , কখনো পারিসরিক বিজ্ঞান কখনো-বা পরিবেশ বিজ্ঞান হিসেবে | যে পরিচয় ,বা যে নামই দেওয়া হোক না কেন 'ভূগোল'(একই সাথে ইংরেজি Geography) নামটি আজও জনপ্রিয় এবং ভূগোল শাস্ত্রের মূল সুর 'মানুষ ও তার পৃথিবী' টা আজো অবিকৃত রয়েছে | এমন-কি বর্ণনা করনের যে ঐতিহ্য টা এখনো ভূগোল বিদদের প্রাথমিক দায়িত্ব | এই অর্থে ভূগোলবিদরা যথার্থই পরিবেশ সাংবাদিক | পরিবেশের সংগে মানুষের যে বিস্তৃত সম্পর্ক টা একমাত্র ভূগোলবিদরাই পুনাঙ্গ ও যথাযথ বর্ণনার মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন |
সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী পরিবেশ প্রেক্ষাপটে ভূগোল শাস্ত্রকে 'মানব-পরিবেশ মিথস্ক্রিয়ার' বিজ্ঞান হিসেবে অনেকেই আখ্যায়িত করেছেন | বস্তুত , এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভূগোল শাস্ত্রের প্রাচীন ঐতিহ্যের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয় | তবে এই প্রসঙ্গে যা গুরত্ত্ব পূর্ণ টা হলো, পরিবেশ প্রত্যক্ষণ সকল মানুষের এক রূপ নয়, একইভাবে মানব-পরিবেশের সম্পর্কও| ষাটের দশকে ভুগল্শাস্ত্রে আচরণবাদী ধ্যান-ধারণার অনুপ্রবেশ ঘটলে এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হয় | একজন ভেষজবিদের কাছে স্বর্ণলতা মহামূল্যবান ; কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের কাছে টা বুনোলতা মাত্র | সুতরাং মানব-পরিবেশ সম্পর্কিত অনুসন্ধান করা এবং এর সম্ভাব্য নৈব্যত্তিক রূপটি গঠণ করা | যেহেতু সামগ্রিক বা ভৌগলিক পরিবেশ এক এক ব্যক্তির কাছে এক এক রূপে প্রতিকৃত (image) হয় , সেহেতু ভূগোলবিদদের উচিত প্রত্যক্ষজ পরিবেশের সীমা নির্দেশ করা এবং ব্যক্তি বা সমাজের সংগে ওই পরিবেশের সম্পর্কের মাত্রা নির্ধারণ করা | এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ভূগোলশাস্ত্রকে -- সময় ও স্থানিক প্রেক্ষাপটে মানুষ ও তার প্রত্যক্ষজ পরিবেশের সম্পর্ক পর্যালোচনা করার শাস্ত্র হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে |
----
সুত্র : বাকী, আ. ও জা. খান (১৯৯৭) ভুবনকোষ , ঢাকা : বঙ্গ
No comments:
Post a Comment